অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ (তথ্যসূত্র অনুসারে গত ১৩ মে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে*)
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের (Crud Oil) তীব্র সংকটে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় গত ৫৪ দিন ধরে দেশে কোনো ক্রুড তেলের চালান আসেনি। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড তেলের চালান এসেছিল। এরপর গত ৩ মার্চ ও আবুধাবি থেকে আসার কথা থাকা দুটি বড় চালান বাতিল হয়ে যায়।
বিপজ্জনক ‘ডেড স্টক’ অপারেশনের বিবরণ
ইআরএল সাধারণত দৈনিক ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন করে। সংকট শুরু হওয়ার পর উৎপাদন কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামানো হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা বর্জ্যমিশ্রিত তেল বা ‘ডেড স্টক’ দিয়েও শেষ চেষ্টা চালানো হয়।
শোধনাগারের বর্তমান অবস্থা:
| সূচক | পরিসংখ্যান/অবস্থা |
| সর্বশেষ শোধন | রবিবার (১৩ মে) বিকাল পর্যন্ত। |
| ব্যবহারযোগ্য মজুত | ২,০০০ টনের নিচে (গত ৪ মার্চ)। |
| ডেড স্টক ব্যবহার | ৩৩,০০০ টন (ট্যাংকের তলানি থেকে)। |
| এসপিএম পাইপলাইন | ৫,০০০ টন সংগ্রহ করে চালানো হয়েছিল। |
| ঝুঁকি | ময়লা ও স্লাগের কারণে যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার উচ্চ আশঙ্কা। |
বিকল্প ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিপিসি (BPC) সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরামকোর কাছ থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেলের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। যা পারস্য উপসাগর এড়িয়ে আরব সাগর হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ১ লাখ টন ক্রুড কেনার প্রস্তাব সরকার অনুমোদন করেছে। রিফাইনারি বন্ধ থাকলেও পরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দেশে জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
