সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
১৪ এপ্রিল, ২০২৬
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের প্রভাতী আয়োজনে সুরের মূর্ছনার পাশাপাশি বেজে উঠল প্রতিবাদের সুর। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দেশের বর্তমান সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিরাজমান অসহিষ্ণুতা ও ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী।
তিনি বলেন, “সংগীত বাঙালির জীবনের আনন্দ-বেদনা ও সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি গোষ্ঠী এ দেশের সাংস্কৃতিক কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে।”
হামলা ও ভাঙচুরের খতিয়ান
সারওয়ার আলী তাঁর বক্তব্যে গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু স্পর্শকাতর ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যা সমাজের অসহিষ্ণুতাকে ফুটিয়ে তোলে।
উল্লিখিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ:
| ঘটনার ধরণ | বিবরণ |
| ছায়ানটে হামলা | বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর ও নালন্দা বিদ্যালয়ের শিশুদের বইপত্র নষ্ট করা। |
| গণমাধ্যমে আঘাত | বিভিন্ন সংবাদপত্রের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি। |
| শিল্পীদের ওপর হামলা | উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এবং মফস্বলের বাউলশিল্পীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ। |
| ঐতিহাসিক ক্ষত | ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলার স্মৃতিচারণ, যা নিরাপত্তার অভাবের প্রতীক। |
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বিশ্বশান্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, মানুষ আজ সংঘাতের বদলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনা করছে। তিনি এমন একটি সমাজ গড়ার আহ্বান জানান যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে গান গাইতে এবং নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা করতে পারবে।
