অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
১৪ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার আশা এবং ট্রাম্পের ‘ফোন কল’ পাওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.২% কমে প্রতি ব্যারেল ৯৯.১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১.৬% কমে হয়েছে ৯৭.৪৮ ডলার।
কূটনৈতিক ‘ট্যাগ অফ ওয়ার’ ও পারমাণবিক বিতর্ক
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান একটি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ৫ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের মেয়াদের দাবিতে অনড় রয়েছে।
জ্বালানি বাজারের বর্তমান চিত্র:
| সময়কাল | তেলের দাম (Brent Crude) | বাজার পরিস্থিতি |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি (যুদ্ধের আগে) | প্রায় $৭৩ | স্থিতিশীল |
| ১৩ এপ্রিল (সোমবার) | $১০০+ | চরম অস্থির (অবরোধের ঘোষণা) |
| ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) | $৯৯.১৪ | সাময়িক স্বস্তি (আলোচনার গুঞ্জন) |
আইইএ (IEA)-এর সতর্কবার্তা ও সরবরাহে বিঘ্ন
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (IEA) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাস আরও খারাপ হতে পারে। কারণ মার্চে যে তেল পাওয়া গেছে, তা সংকটের আগেই জাহাজে তোলা হয়েছিল। এপ্রিলে নতুন কোনো তেল জাহাজে তোলা হচ্ছে না।
সরবরাহ বিঘ্নের গাণিতিক চিত্র:
আইইএ-এর মাসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্চ মাসে তেলের সরবরাহে ইতিহাসের বৃহত্তম বিঘ্ন ঘটেছে। সরবরাহের পরিমাণ দিনে ১০.১ মিলিয়ন ব্যারেল (mb/d) কমে ৯৭ mb/d-এ নেমে এসেছে।
আইইএ ইতিমধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের মোট মজুতের মাত্র ২০%। অর্থাৎ প্রয়োজনে তারা আরও তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত।
