আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রোম
১৪ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক পোপ লিও-কে “ভয়াবহ” (Terrible) বলে আক্রমণ করার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালি। ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শেষ পর্যন্ত নীরবতা ভেঙে ট্রাম্পের এই আচরণকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছেন।
রবিবার এক দীর্ঘ বক্তৃতায় ট্রাম্প পোপের সমালোচনা করার পর নিজেকে যিশু খ্রিস্টের মতো ভঙ্গিতে চিত্রিত করে একটি এআই (AI) ছবি পোস্ট করেন। এই ঘটনাটিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অংশ ‘ব্লাসফেমি’ বা ধর্ম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
সংঘাতের মূল বিন্দু ও প্রতিক্রিয়া
পোপ লিও বর্তমানে আফ্রিকা সফরে রয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের হুমকির জবাবে জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে “ভয় পান না” এবং ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসীদের পক্ষে তাঁর কথা বলা অব্যাহত থাকবে।
ইতালির রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এক নজরে:
| রাজনীতিবিদ | অবস্থান | মূল বক্তব্য |
| জর্জিয়া মেলোনি | বিরল ধমক | “পোপ শান্তি চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। ট্রাম্পের শব্দ চয়ন অগ্রহণযোগ্য।” |
| মাত্তেও সালভিনি | দূরত্ব বজায় রাখা | “পোপকে আক্রমণ করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি।” |
| মাত্তেও রেনজি | কড়া সমালোচনা | “পোপ সেতুবন্ধনকারী, আর ট্রাম্প সভ্যতা ধ্বংসকারী।” |
ভ্যাটিকানের আধ্যাত্মিক শক্তি বনাম রাজনৈতিক ক্ষমতা
ভ্যাটিকানের সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক ডিকাস্টেরির আন্ডারসেক্রেটারি আন্তোনিও স্পাদারো এই আক্রমণকে ট্রাম্পের “দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ” হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, পোপ যদি অপ্রাসঙ্গিক হতেন, তবে ট্রাম্প তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন বোধ করতেন না।
চি মাঞ্জা পাপা ক্রেপা (Chi mangia papa crepa) > ইতালিতে প্রচলিত এই প্রবাদের অর্থ হলো— “যে পোপকে গ্রাস করতে চায়, সেই মারা যায়।” ইতিহাসের পাতায় ১৮ শতকে ইতালির রাজপরিবার (হাউস অফ স্যাভয়) পোপের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে ক্ষমতা হারিয়েছিল, কিন্তু পোপের আসন এখনো অটুট।
