আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৫ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সোমবারের মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হয় এবং কোনো চুক্তিতে না আসা হয়, তবে মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ব্রিজ ডে’। অর্থাৎ ওইদিন ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে একযোগে ভয়াবহ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে এই হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন ইরান থেকে এক গুরুতর আহত মার্কিন বিমানসেনাকে (Weapons Systems Officer) উদ্ধারের দাবি করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প এটিকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
[Image showing charred wreckage of an American aircraft scattered in an Iranian desert]
রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান: দাবি ও পাল্টা দাবি
উদ্ধার অভিযানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সেনাকে উদ্ধারের জন্য একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর ব্যবহার করা হয়েছিল।
| বিষয় | মার্কিন মিডিয়ার দাবি | ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি |
| উদ্ধারের স্থান | ইরানের গভীর পার্বত্য অঞ্চল। | ইসফাহান প্রদেশের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর। |
| বিমানের ক্ষয়ক্ষতি | দুটি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে যাতে ইরানের হাতে না পড়ে। | চারটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করার দাবি। |
| হতাহত | বিমানসেনা সফলভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসাধীন। | অভিযানে ৫ জন নিহত হওয়ার দাবি। |
| সরঞ্জাম | পিস্তল, বিকন এবং গোপন যোগাযোগ যন্ত্র। | ইরানের পক্ষ থেকে ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ। |
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও মানবিক সংকট
যুদ্ধ কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় একটি পরিবারের ৬ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের ঝুঁকি:
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি সতর্ক করেছেন যে, বুশেহর প্ল্যান্টে হামলা অব্যাহত থাকলে পারমাণবিক বিকিরণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা তেহরানের চেয়ে কুয়েত বা কাতার বা বাহরাইনের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ইতিমধ্যে রাশিয়া তাদের ১৯৮ জন কর্মীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
নিপীড়ন ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
যুদ্ধের আড়ালে ইরান সরকার তার অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন আরও জোরালো করেছে। রোববার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান। একইসঙ্গে নেটব্লকস (Netblocks) জানিয়েছে, ইরানে বর্তমানে ইতিহাসের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।
