Sunday, October 25, 2026
Homeজাতীয়১২ লাখ শিশুর সুরক্ষায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু

১২ লাখ শিশুর সুরক্ষায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু

১৮টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় ৫ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু; মে মাসে সারাদেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্য; সহায়তায় ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও এবং গ্যাভি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ১৮টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে সরকার। রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্যাভি-র কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচির সময়সূচী

পর্যায়শুরুর তারিখএলাকা
১ম পর্যায়৫ এপ্রিল, ২০২৬১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা।
২য় পর্যায়১২ এপ্রিল, ২০২৬চারটি সিটি কর্পোরেশন এলাকা।
৩য় পর্যায়৩ মে, ২০২৬দেশব্যাপী সাধারণ টিকাদান কার্যক্রম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও অংশীদারিত্ব

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন:

“হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। আমি ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সকে ধন্যবাদ জানাই দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য। পাশাপাশি গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।”

উদ্বেগের কারণ: ‘জিরো-ডোজ’ শিশু ও ঘনবসতি

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, হামের এই পুনরুত্থান মূলত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি বা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ প্রকাশ করে। বিশেষ করে যারা কখনও কোনো টিকা পায়নি (জিরো-ডোজ) এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

কক্সবাজার এবং ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে উচ্চ জনসংখ্যা ও চলাচলের আধিক্যের কারণে দ্রুত টিকাদানকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা অত্যন্ত জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি-র ভূমিকা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি ডক্টর আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হাম-রুবেলা টিকা নিরাপদ এবং এটিই এই দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।”

গ্যাভি-র সিনিয়র কান্ট্রি ম্যানেজার ডার্ক গেহল জানান, ২০০৭ সাল থেকে তারা বাংলাদেশে ইমিউনাইজেশন খাতে ২.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সরকারকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

RELATED NEWS

Latest News