নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য একটি নতুন ‘চাহিদা-ভিত্তিক’ খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)। এই নতুন পদ্ধতির লক্ষ্য হলো ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত পরিবারগুলোর প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে আরও সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত সহায়তা নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানায়, কক্সবাজার এবং ভাসান চরে বসবাসরত প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য তারা ‘টার্গেটিং অ্যান্ড প্রায়োরিটাইজেশন এক্সারসাইজ’ (TPE) বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার অধীনে পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তার স্তরের ওপর ভিত্তি করে মাসিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
সহায়তার পরিমাণ ও বণ্টন পদ্ধতি
নতুন এই পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে তিনটি প্রধান স্তরে ভাগ করা হয়েছে। নিচে মাসিক মাথাপিছু সহায়তার একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো:
| পরিবারের অবস্থা | কক্সবাজার (মাসিক) | ভাসান চর (মাসিক) |
| অত্যন্ত খাদ্য-অনিরাপদ | ১২ মার্কিন ডলার | ১৩ মার্কিন ডলার |
| উচ্চ খাদ্য-অনিরাপদ | কিছুটা কম বরাদ্দ | কিছুটা কম বরাদ্দ |
| অন্যান্য খাদ্য-অনিরাপদ | ন্যূনতম সহায়তা | ন্যূনতম সহায়তা |
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গোষ্ঠীসমূহ
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, এই ব্যবস্থাটি দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটের ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নোক্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
নারী-চালিত পরিবার।
বয়স্ক ব্যক্তি বা শিশুদের দ্বারা পরিচালিত পরিবার।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে এমন পরিবার।
ডব্লিউএফপি-র কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন:
“এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি যে সবাই যেন তাদের ন্যূনতম খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারে, পাশাপাশি যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে উচ্চতর বরাদ্দ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অর্থায়ন
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই নতুন পদ্ধতি কার্যকরের আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দাতা দেশের অব্যাহত সহায়তায় ডব্লিউএফপি আশা করছে যে, নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম কোনো বিঘ্ন ছাড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
