ভেনেজুয়েলা সরকার সোমবার ঘোষণা করেছে যে মাদক পাচার দমনে কলম্বিয়া সীমান্তে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বাধীন সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলো যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপ ও সমালোচনার মধ্যে।
মাদুরো তার সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেন, “ভেনেজুয়েলা একটি পরিচ্ছন্ন ভূখণ্ড, যেখানে কোকা চাষ নেই, কোকেন উৎপাদন নেই। আমাদের দেশ মাদকমুক্ত।”
সরকারের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানান, সীমান্তবর্তী জুলিয়া ও তাচিরা অঙ্গরাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৫৩ টন মাদক জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও কাবেলোকে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে তারা “কার্টেল দে লস সোলেস” নামের একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত, যেটিকে মার্কিন প্রশাসন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলের আন্তর্জাতিক পানিসীমায় তিনটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে এবং প্রায় চার হাজার মেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে। একই সঙ্গে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে তার মাথার দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মাদুরো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলায় শাসন পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, দেশের ভেতরে হাজার হাজার মিলিশিয়া সদস্যকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পক্ষ বলছে, সীমান্তে সেনা মোতায়েনের এই পদক্ষেপ কেবল নিরাপত্তা জোরদার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলার অবস্থান স্পষ্ট করতেও সহায়ক হবে।