আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরাসরি অ্যাকশনে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শনিবার (১১ এপ্রিল) ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে, প্রণালীটিকে ইরানের আইআরজিসি (IRGC)-এর পাতা মাইন থেকে মুক্ত করতে তারা ‘কন্ডিশন সেটিং’ বা প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি শক্তিশালী রণতরী— USS Frank Peterson এবং USS Michael Murphy ইতিমধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা একটি নতুন এবং নিরাপদ চলাচলের পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বিশ্ববাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই আমরা এই নিরাপদ রুটটি মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রির সাথে শেয়ার করব।”
ট্রাম্পের দাবি: ইরানের নৌবাহিনী কি সত্যিই নিশ্চিহ্ন?
অপারেশন শুরু হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্ট দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সমস্ত মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবির উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
ইরানের মাইন বোট: ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ২৮টি মাইন ড্রপার বোটের সবগুলোই এখন সমুদ্রের তলদেশে।
ইরানি সামরিক শক্তি: ট্রাম্প বারবার বলছেন যে, আমেরিকান বাহিনী ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচি পঙ্গু করে দিয়েছে।
উদ্দেশ্য: হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কমানো।
জ্বালানি বাজার ও অর্থনৈতিক প্রভাব
যদিও যুক্তরাষ্ট্র তার প্রয়োজনীয় তেলের বেশিরভাগই এই প্রণালী থেকে নেয় না, তবুও বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০% জ্বালানি পরিবাহিত হয়, যার ফলে এর বন্ধ হয়ে থাকা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
