আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, আজ শুক্রবার পুরো প্রক্রিয়াটি অনিশ্চয়তার ঘন মেঘে ঢাকা পড়েছে। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার ফলে আলোচনার টেবিল আদৈা বসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরান ‘খুবই নিম্নমানের’ কাজ করছে। অন্যদিকে, ইরান বলছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে এই আলোচনার কোনো ‘অর্থ নেই’।
অচলাবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু: হরমুজ ও লেবানন
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। এই দ্বন্দ্বের প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| ইস্যু | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইরানের অবস্থান |
| হরমুজ প্রণালী | ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে। | প্রযুক্তিগত কারণে ধীরগতি, তবে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। |
| লেবানন ফ্রন্ট | লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয় (আলাদা আলোচনা হবে)। | লেবাননে হামলা চললে যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গ হয় না। |
| ইসলামাবাদ বৈঠক | জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল শনিবার পৌঁছাবে। | অংশগ্রহণ নির্ভর করছে লেবানন পরিস্থিতির ওপর। |
| পাকিস্তানের ভূমিকা | নিরপেক্ষতার অভাব (ইসরায়েল বিরোধী মন্তব্যের কারণে)। | লেবাননকেও চুক্তির আওতায় রাখার দাবি। |
‘ব্ল্যাক ওয়েডনেসডে’ এবং আলোচনার সার্থকতা
গত বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের ‘সবচেয়ে ভারী’ হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তেহরানের বাসিন্দারা এখন যুদ্ধের ফেরার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, “আলোচনা সফল হওয়া নির্ভর করছে সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে মার্কিন প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘ক্যান্সার আক্রান্ত রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করায় কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েল এই মন্তব্যকে ‘অসহনীয়’ বলে নিন্দা জানিয়েছে, যা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
