আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ইউএস-ইরান শান্তি বৈঠক। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক ও একপাক্ষিক’ দাবির কারণেই আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়ে গেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি প্রতিনিধি দল জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় টানা ২১ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও আমেরিকানদের অযৌক্তিক দাবি সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”
আলোচনার অচলাবস্থা: কোথায় ছিল মূল সংঘাত?
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তারা আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড় ছিল। যদিও আইআরআইবি নির্দিষ্ট করে ‘অযৌক্তিক দাবি’র নাম বলেনি, তবে আলোচনার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে নিচের বিষয়গুলো উঠে আসে:
| ইস্যু | ইরানের ‘উদ্যোগ’ ও দৃষ্টিভঙ্গি | যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবি (ইরানের মতে) |
| লেবানন ফ্রন্ট | লেবাননে হামলা বন্ধকে চুক্তির শর্ত হিসেবে রাখা। | লেবাননকে আলাদা রাখা এবং হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখা। |
| পারমাণবিক শক্তি | শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখা। | ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। |
| মিসাইল প্রোগ্রাম | জাতীয় প্রতিরক্ষা হিসেবে মিসাইল সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা। | ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম নাটকীয়ভাবে হ্রাস করা। |
| হরমুজ প্রণালী | টোল আদায় ও আঞ্চলিক কর্তৃত্বের স্বীকৃতি। | কোনো বাধা বা টোল ছাড়াই সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করা। |
