নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১১ এপ্রিল, ২০২৬
মঙ্গল গ্রহে বাংলাদেশের পতাকা উড়বে—এমন স্বপ্ন কি কেবলই কল্পনা? উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন খুদে ছাত্র অর্ঘ্য ওঝা, হিমাদ্রি বাড়ৈ রুহান এবং শোভন দে শুভ্র বলছে, “একেবারেই না!” তাদের তৈরি ‘মার্স রোভার’ এখন কেবল একটি প্রজেক্ট নয়, বরং মহাকাশ জয়ের পথে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক মূর্ত প্রতীক।
রাজধানীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ৪৩তম সায়েন্স কার্নিভাল গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। প্রায় ৬০০ ছাত্র-ছাত্রী এবং ৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এটি ছিল এই কার্নিভালের এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ আসর।
উদ্ভাবনী প্রজেক্টের চমক: রোবোটিক্স থেকে ডাটা সায়েন্স
কার্নিভালে ১৭২টি উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শিত হয়, যার মধ্যে নগর পরিকল্পনা, কৃষি আধুনিকায়ন, পানি বিশুদ্ধকরণ এবং বায়ুমণ্ডল থেকে $CO_2$ (কার্বন-ডাই-অক্সাইড) ফিল্ট্রেশনের মতো বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের পথ দেখানো হয়েছে।
সেরা উদ্ভাবনসমূহের হাইলাইটস:
| প্রজেক্টের নাম | প্রস্তুতকারী | বিশেষত্ব |
| মার্স রোভার | ৯ম শ্রেণীর দল (অর্ঘ্য, হিমাদ্রি, শোভন) | অনেক ব্যর্থতার পর সফলভাবে মঙ্গলে যান পাঠানোর মডেল প্রস্তুত। |
| ফেস রিকগনিশন অ্যাটেনডেন্স | ১১শ শ্রেণীর দল (রাহাত ও তারেক) | মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে চেহারার স্ক্যান করে স্বয়ংক্রিয় হাজিরা গ্রহণ। |
| কার্বন ফিল্ট্রেশন সিস্টেম | খুদে পরিবেশবিদরা | জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন শোষণের প্রযুক্তি। |
“ইলন মাস্ক পারলে আমরা কেন নয়?”
নয়ম শ্রেণীর ছাত্র অর্ঘ্য ওঝা দৃপ্ত কণ্ঠে বলে, “ইলন মাস্কের স্পেসএক্স যদি মঙ্গলে যাওয়ার মিশন নিতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? আমরা বিজ্ঞানী হতে চাই এবং মহাকাশ গবেষণায় আমাদের দেশের সক্ষমতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই।”
অন্যদিকে, একাদশ শ্রেণীর রাহাত ও তারেক উদ্ভাবিত ফেস রিকগনিশন অ্যাটেনডেন্স সিস্টেমটি প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। তারা জানায়, প্রচলিত রেজিস্টার পদ্ধতির বদলে এই অ্যাপ ব্যবহার করলে শিক্ষকদের সময় বাঁচবে এবং ডাটাবেজ কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
