Friday, April 3, 2026
Homeআন্তর্জাতিকইরানে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ সেতু ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের: ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরার হুঁশিয়ারি

ইরানে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ সেতু ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের: ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরার হুঁশিয়ারি

কারাজের বি-১ সেতুতে জোড়া হামলায় ৮ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত; ‘বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নৈতিক পরাজয়’ বলে মন্তব্য তেহরানের।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে “প্রস্তর যুগে (Stone Age)” ফিরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় দেশটির আলবোর্জ প্রদেশে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ সেতুটি ধ্বংস করার দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার তেহরান থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কারাজ এলাকায় অবস্থিত নির্মাণাধীন বি-১ (B1) সেতুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী এই হামলা চালায়।

আলবোর্জ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর কুদরতুল্লাহ সেফ জানিয়েছেন, এই হামলায় ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা

সেতুটি থেকে ধোঁয়া ওঠার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন:

“ইরানের বৃহত্তম সেতুটি ধসে পড়ল, এটি আর কখনোই ব্যবহার করা যাবে না—সামনে আরও বড় কিছু আসছে! ইরানের জন্য এখনই সময় চুক্তিতে আসার, নইলে দেরি হয়ে যাবে। গ্রেট কান্ট্রি হওয়ার মতো যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার কিছুই আর বাকি থাকবে না!”

ইরানের প্রতিক্রিয়া: ‘নৈতিক পতন’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন:

“অসমাপ্ত সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে না। এটি কেবল বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত শত্রুর নৈতিক পতন ও পরাজয়ের বার্তা বহন করে।”

একনজরে হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি

বিষয়তথ্য
আক্রান্ত স্থানবি-১ (B1) সেতু, কারাজ, আলবোর্জ প্রদেশ।
সেতুর বৈশিষ্ট্য১৩৬ মিটার (৪৪৭ ফুট) উঁচু কলাম; মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চতম।
হামলার ধরণমার্কিন-ইসরায়েলি জোড়া মিসাইল স্ট্রাইক।
হতাহত৮ জন নিহত, ৯৫ জন আহত (বেশিরভাগ উদ্ধারকর্মী)।
কৌশলগত অবস্থানির্মাণাধীন অসামরিক স্থাপনা।

ডাবল ট্যাপ হামলা: ইরানি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, প্রথম হামলার পর যখন উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এর ফলে হতাহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়। গতকালের ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে, তবে ইরান যদি শর্ত না মানে তবে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের “প্রস্তর যুগে” পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং একের পর এক বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে।

RELATED NEWS

Latest News