লাইফস্টাইল প্রতিবেদক | ৭ এপ্রিল, ২০২৬
কিশোর বয়স মানেই শরীরে হাজারো পরিবর্তন। নতুন আবেগ, কণ্ঠস্বরে গাম্ভীর্য আর নিজের লুক বা চেহারা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা। ঠিক এমন সময়ে যদি আয়নায় তাকিয়ে দেখেন আপনার কপাল আগের চেয়ে বড় হয়ে যাচ্ছে বা হেয়ারলাইন পেছনের দিকে সরে যাচ্ছে—তবে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। অনলাইন ফোরাম ‘কোরা’ (Quora)-তে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের আর্তনাদ ছিল এমন— “আমি মাত্র ১৬, এখনই কেন আমার হেয়ারলাইন পিছিয়ে যাচ্ছে?”
মুম্বাইয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ শরিফা চাউস এই ভয়ের পেছনে থাকা বিজ্ঞান এবং বাস্তবতা নিয়ে সোজাসাপ্টা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, কিশোর বয়সে হেয়ারলাইন সামান্য বদলে যাওয়া মানেই ‘টাক’ পড়া নয়।
মেচিউরিং হেয়ারলাইন বনাম অকাল হেয়ার লস: পার্থক্য কোথায়?
কিশোর বয়সে বিশেষ করে ছেলেদের চেহারার গড়ন যখন পরিণত (mature) হয়, তখন হেয়ারলাইন স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা পেছনের দিকে সরে যায়। একে বলা হয় ‘মেচিউরিং হেয়ারলাইন’। তবে সাধারণ পরিবর্তন আর প্রকৃত হেয়ার লসের মধ্যে সুক্ষ্ম কিছু পার্থক্য আছে:
| বৈশিষ্ট্য | মেচিউরিং হেয়ারলাইন (স্বাভাবিক) | অকাল হেয়ার লস (উদ্বেগের কারণ) |
| প্যাটার্ন | পুরো কপাল জুড়ে সমানভাবে পেছনের দিকে সরে। | অসমভাবে সরে, বিশেষ করে রগ (temples) বা মাথার তালু (crown)। |
| ঘনত্ব | চুলের ঘনত্ব বা পুরুত্ব কমে না। | চুল ক্রমাগত পাতলা এবং ছোট (shrinking) হতে থাকে। |
| স্থায়িত্ব | নির্দিষ্ট একটি উচ্চতায় গিয়ে এটি থেমে যায়। | থামে না, বরং টাকের আকার বড় হতে থাকে। |
| লক্ষণ | কোনো চুল পড়া বা খুশকি থাকে না। | অস্বাভাবিক হারে চুল পড়া বা মাথার ত্বকে চুলকানি থাকতে পারে। |
কেন এমন হয়?
১. বংশগতি (Genetics): পরিবারের বড়দের যদি অকালে টাক পড়ার ইতিহাস থাকে, তবে আপনার ‘মেল প্যাটার্ন হেয়ার লস’ ১৬ বছর বয়সেই শুরু হতে পারে।
২. হরমোনের তারতম্য: বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে হরমোনের যে ঝড় বয়ে যায়, তার প্রভাবে হেয়ার ফলিকল সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।
৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপ: পড়াশোনা বা প্রতিযোগিতার চাপে কিশোর বয়সেও ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামক সমস্যায় চুল পড়তে পারে।
৪. পুষ্টিহীনতা ও জাঙ্ক ফুড: চুলের স্বাস্থ্যের জন্য প্রোটিন, আয়রন এবং বায়োটিন জরুরি। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়া চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: আতঙ্কিত না হয়ে যা করবেন
ডঃ শরিফা চাউসের মতে, হেয়ারলাইন পিছিয়ে যেতে দেখলে প্রথম কাজ হলো আতঙ্কিত না হওয়া। তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যে:
“বিজ্ঞাপন দেখে বা ইন্টারনেটে খুঁজে নিজে নিজে কোনো তেল, শ্যাম্পু বা ওষুধ (Self-medication) ব্যবহার করবেন না। এটি হিতে বিপরীত হতে পারে।”
করণীয়:
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: একজন ডার্মাটোলজিস্ট দেখিয়ে নিশ্চিত হোন এটি স্বাভাবিক পরিবর্তন নাকি কোনো রোগের লক্ষণ।
খাদ্যাভ্যাস: প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার খান।
যত্ন: চুলে অতিরিক্ত জেল, হিট বা হার্শ কেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধ করুন।
