Wednesday, April 8, 2026
Homeজাতীয়৩ মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয়: বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রপতির ‘নিয়ন্ত্রণ’ মুক্ত করল হাইকোর্ট

৩ মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয়: বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রপতির ‘নিয়ন্ত্রণ’ মুক্ত করল হাইকোর্ট

১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ; ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী বাতিল ও ১৯৭২-এর মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল।

আইন ও আদালত প্রতিবেদক | ঢাকা

৭ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সই করা ১৮৫ পৃষ্ঠার এই রায়টি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই পৃথক সচিবালয় স্থাপন করতে হবে। এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার ওপর রাষ্ট্রপতির দীর্ঘদিনের একক কর্তৃত্বের অবসান ঘটল।

পাওয়ার শিফট: কী পরিবর্তন আসছে বিচার বিভাগে?

রায়ের পূর্ণাঙ্গ পাঠ অনুযায়ী, এখন থেকে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার পূর্ণ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে, রাষ্ট্রপতির হাতে নয়।

পূর্বের বনাম বর্তমান ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র:

বিষয়পূর্বের ব্যবস্থা (চতুর্থ সংশোধনী অনুযায়ী)বর্তমান রায় অনুযায়ী (মূল সংবিধান)
সচিবালয় নিয়ন্ত্রণআইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হতো।সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ও পৃথক সচিবালয়।
পদোন্নতি ও ছুটিসুপ্রিম কোর্টের সাথে ‘পরামর্শ’ সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিতেন।সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবে।
শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থারাষ্ট্রপতির এখতিয়ার ছিল।সুপ্রিম কোর্টের একক এখতিয়ার।
সাংবিধানিক ভিত্তি১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী।১৯৭২ সালের মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ।

চতুর্থ সংশোধনী বাতিল ও ১১৬ অনুচ্ছেদ

হাইকোর্ট তার রায়ে ১৯৭৫ সালের বিতর্কিত চতুর্থ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির (নির্বাহী বিভাগের) হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। এর পরিবর্তে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে বহাল করা হয়েছে। এর ফলে মাসদার হোসেন মামলার পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার যে চূড়ান্ত ধাপটি বাকি ছিল, তা পূর্ণতা পাওয়ার পথ তৈরি হলো।

RELATED NEWS

Latest News