নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
সারা দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি আমাদের জন্য মহান আল্লাহর নেয়ামত। আমরা আল্লাহর এই আমানত ও নেয়ামত রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে আমরা আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করব।
মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, তার দল বাংলাদেশ এবং এর ১৮ কোটি মানুষকে ভালোবাসে। এ দেশের প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে বিভিন্ন পর্যায়ে যারা দেশ শাসন করেছেন, তাদের মধ্যে যারা ইতিবাচক অবদান রেখেছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ব্যর্থ হয়েছেন তাদের ব্যর্থতার দায় অবশ্যই নিতে হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সব নাগরিককে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তারা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার বাংলাদেশ গড়তে চায়। যেখানে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মক্ষেত্রে মায়েদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত কোনো পচা বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা এ দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বপ্ন দেখাতে চাই এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে শামিল করতে চাই। জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে এগিয়ে যেতে চাই।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে ভালোর দিকে যাওয়া, আর ‘না’ মানে জুলুম ও অন্যায়ের দিকে যাওয়া। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর আগে জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছে দাবি করে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ওপর নির্যাতনকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ১৫ দিন ধরে তারা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয় পাহারা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পথসভা শেষে তিনি গোপালগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল হামিদ মোল্লার হাতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন এবং জনগণের কাছে তার জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির এমএম রেজাউল করিম, সেক্রেটারি জেনারেল আল মাসুদ খানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
