Saturday, August 8, 2026
Homeজাতীয়ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ৪ দিন পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে...

ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ৪ দিন পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে অভিযুক্তরা

গত ২৬ মার্চ মহেশপুরে এই নৃশংসতার ঘটনা ঘটে। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঝিনাইদহ

১ এপ্রিল, ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার চার দিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ভুক্তভোগীর পরিবার চরম হতাশা প্রকাশ করেছে।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের রাতে উপজেলার সামন্তা বাগডাইরাইত গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি শুরুতে গোপন রাখলেও গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগীর পরিবার মহেশপুর থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় প্রতিবেশী এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিল ওই কিশোরী। পথে শাওন ও হযরত আলী তাকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি ঘাসক্ষেতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে নয়ন ও ফরিদ তাদের সাথে যোগ দেয়। চারজন মিলে পর্যায়ক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। সে সময় ফরিদের ছেলে আমিন কিশোরীর মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। শাওন ও আমিন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং বিষয়টি জানাজানি হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।

ভুক্তভোগী কিশোরী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানায়, তারা সবাই মিলে আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি, কিন্তু তারা এখন মজার জন্য এই ভিডিও অন্যদের দেখাচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

ভুক্তভোগীর খালা এবং মামলার অভিযোগকারী ফাতেমা খাতুন হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্তরা ভিডিওটি বিভিন্ন মানুষকে দেখানোর পরই পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবারটি শুরুতে বিষয়টি গোপন রেখেছিল। পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

RELATED NEWS

Latest News