আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬ লক্ষ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ (SPA) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই হামলায় সৌদি জ্বালানি খাতের একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এই প্রথম সৌদি আরব তাদের তেল উৎপাদন ও পাইপলাইন প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করল।
উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় বিপর্যয়
হামলার ফলে সৌদি আরবের ম্যানিফা (Manifa) এবং খুরাইস (Khurais) তেলক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রিয়াদ, ইয়ানবু এবং পূর্বঞ্চলীয় প্রদেশের শোধনাগারগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান ও প্রভাব:
| স্থাপনার নাম | ক্ষতির ধরণ | সক্ষমতা হ্রাস (ব্যারেল/দিন) |
| ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন | পাম্পিং স্টেশনে আঘাত | ৭,০০,০০০ bpd |
| ম্যানিফা তেলক্ষেত্র | সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | ৩,০০,০০০ bpd |
| খুরাইস তেলক্ষেত্র | যান্ত্রিক অবকাঠামো ধ্বংস | ৩,০০,০০০ bpd |
| রিফাইনারি (SATORP, SAMREF) | রফতানি যোগ্য তেলের প্রক্রিয়াকরণ ব্যাহত | উল্লেখ নেই (গুরুতর) |
একমাত্র রফতানি রুটে আঘাত
ইরানের অবরোধের কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জ্বালানি রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় সৌদি আরবের একমাত্র বিকল্প রফতানি রুট ছিল ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পাইপলাইনে হামলা চালিয়ে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা বিশ্ববাজারকে আরও চাপে রাখতে চায়।
কপলার (Kpler) বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল যেতে না পারায় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটিই ছিল প্রধান ভরসা। এখানে সরবরাহ কমে যাওয়া মানেই বাজারে তেলের ভয়াবহ সংকট তৈরি হওয়া।”
