নিজস্ব প্রতিবেদক | বান্দরবান
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
পুরানো বছরের জীর্ণতাকে ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বান্দরবানে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রাই’। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে চার দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সচিং প্রু জেরি।
মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বমসহ অন্তত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হাজার হাজার মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শহর প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে গিয়ে শেষ হয়।
উৎসবের চার দিনের পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট
সাংগ্রাই উৎসবটি কেবল আনন্দ-উল্লাস নয়, বরং ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী উৎসবের সূচী নিচে দেওয়া হলো:
| তারিখ | প্রধান ইভেন্ট / কর্মসূচি | তাৎপর্য |
| ১৩ এপ্রিল (সোম) | বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও ‘বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা’। | সম্প্রীতি ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। |
| ১৪ এপ্রিল (মঙ্গল) | বুদ্ধ স্নান (রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার থেকে উজানিপাড়া খেয়াঘাট) এবং পিঠা উৎসব। | আধ্যাত্মিক শুদ্ধি ও পাড়া-ভিত্তিক মিলনমেলা। |
| ১৫ এপ্রিল (বুধ) | মৈত্রী পানিবর্ষণ (জলকেলি), ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলাধুলা। | মৈত্রীর বন্ধন ও অশুভ শক্তি দূর করা। |
| ১৬ এপ্রিল (বৃহ) | তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওঠা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংগ্রাই গান-নাচ। | উৎসবের সমাপ্তি ও বিজয়ী আনন্দ। |
উদ্বোধনী বক্তব্যে সচিং প্রু জেরি বান্দরবানকে ‘মিনি হিল ট্র্যাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এখানে সকল জাতিগোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে। আমি আশা করি সাংগ্রাই উৎসব অদূর ভবিষ্যতে জাতীয়ভাবে আরও বড় স্বীকৃতি পাবে।”
