আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২ এপ্রিল, ২০২৬
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে তাদের নাগালের বাইরে থাকা ওই অঞ্চলের অবশিষ্ট ক্ষুদ্র অংশটিও এখন রুশ বাহিনীর দখলে। তবে ইউক্রেনীয় সামরিক মুখপাত্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে ওই এলাকার রণক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
লুহানস্কের ৯৯ শতাংশেরও বেশি এলাকা আগে থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চলকে রাশিয়া নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, লুহানস্ক তার মধ্যে অন্যতম। যদিও কিয়েভ এবং পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই সংযুক্তিকে ‘অবৈধ’ এবং ‘ভূমি দখল’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “সামরিক বাহিনী লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের (মস্কোর ব্যবহৃত নাম) মুক্তি সম্পন্ন করেছে।” লুহানস্ক এবং দোনেৎস্ক নিয়ে গঠিত বৃহত্তর শিল্পাঞ্চল দনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এক নজরে রুশ বাহিনীর নতুন দাবি
| অঞ্চলের নাম | গ্রাম/এলাকার নাম | বর্তমান অবস্থা (মস্কোর দাবি অনুযায়ী) |
| লুহানস্ক | সমগ্র অঞ্চল | সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ |
| খোরকিভ | ভেরখনিয়া পিসারিভকা | নববিজিত এলাকা |
| জাপোরিঝিয়া | বোইকোভ | নববিজিত এলাকা |
ক্রেমলিন বুধবার আবারও তাদের সেই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, যুদ্ধের ‘তীব্র পর্যায়’ (Hot Phase) শেষ করতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে দোনেৎস্কের অবশিষ্ট অংশ থেকে সরে যেতে হবে। তবে কিয়েভ বরাবরের মতোই এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ এবং ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
লুহানস্ক ছাড়াও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তাদের বাহিনী খোরকিভ অঞ্চলের ভেরখনিয়া পিসারিভকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বোইকোভ গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রয়টার্স বা অন্য কোনো স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এখন পর্যন্ত রাশিয়ার এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
