নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১২ এপ্রিল, ২০২৬
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়াতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘তামাক কর ও মূল্য ব্যবস্থা: বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা সিগারেটের স্তর সংখ্যা কমানো এবং সুনির্দিষ্ট কর (Specific Tax) প্রবর্তনের ওপর জোর দেন।
বক্তারা জানান, বর্তমান কর কাঠামো জটিল হওয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো ফাঁকফোকর খোঁজার সুযোগ পায়। নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একীভূত করে দাম বাড়ানো হলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং তরুণদের তামাকের নেশা থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত তামাক কর ও মূল্য কাঠামো
তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সিগারেটের মূল্য ও কর বিন্যাসের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা নিচে সারণী আকারে তুলে ধরা হলো:
| সিগারেটের স্তর | বর্তমান মূল্য (১০ শলাকা) | প্রস্তাবিত মূল্য (১০ শলাকা) | সম্পূরক শুল্ক (SD) | অতিরিক্ত প্রস্তাব |
| নিম্ন ও মধ্যম (একীভূত) | ৫০-১০০ টাকা (গড়ে) | ১০০ টাকা | ৬৭% | ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর |
| উচ্চ স্তর | ১৪০ টাকা | ১৫০ টাকা | ৬৭% | ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর |
| প্রিমিয়াম স্তর | ১৮৫ টাকা | ২০০ টাকা | ৬৭% | ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর |
অন্যান্য তামাকজাত পণ্য:
বিড়ি: ২০ শলাকা ফিল্টার ও নন-ফিল্টার বিড়ির দাম ৩০ টাকা করার প্রস্তাব, সাথে ৫০% সম্পূরক শুল্ক।
জর্দা ও গুল: ১০ গ্রামের জর্দা ৬০ টাকা এবং গুল ৩০ টাকা করার প্রস্তাব, সাথে ৬০% সম্পূরক শুল্ক।
ভ্যাট ও সারচার্জ: ১৫% ভ্যাট এবং বিদ্যমান ১% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ (HDS) বহাল রাখার সুপারিশ।
অর্থনৈতিক ও জনস্বাস্থ্য প্রভাব
সংগঠনগুলোর দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে:
রাজস্ব আয়: তামাক খাত থেকে মোট ৮৫,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব, যা চলতি বছরের তুলনায় ৪৪,০০০ কোটি টাকা বেশি।
জীবন রক্ষা: দীর্ঘমেয়াদে অন্তত ৩ লাখ ৭০ হাজার বাংলাদেশির অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে (যার মধ্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার তরুণ)।
তামাক ত্যাগ: প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ নতুন করে তামাকের নেশায় জড়াবে না।
