সংসদ প্রতিবেদক | ৫ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয় সংসদ ভবনে এক আবেগঘন পরিবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনের বিরতির সময় তিনি সংসদ গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং পরে ভবনের ‘মেঘনা হল’-এ তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
সরকারি প্রটোকল একপাশে সরিয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের কাছে ব্যক্তিগতভাবে যান এবং তাদের কষ্টের কথা শোনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। অনেকের কাঁধে হাত রেখে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না।
সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান জানান, সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৬০ জন ব্যক্তি এই সাক্ষাতে অংশ নেন।
| অংশগ্রহণকারীর ধরণ | সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা |
| শহীদ পরিবারের সদস্য | ২৬ জন | শোকসন্তপ্ত এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। |
| আহত অংশগ্রহণকারী | ৩৪ জন | অনেকে চিকিৎসাধীন এবং স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। |
| মোট অংশগ্রহণকারী | ৬০ জন | জুলাই বিপ্লবের বীর ও তাদের নিকটজন। |
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আশ্বাস
সাক্ষাৎকালে জুলাই বিপ্লবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাদের ধৈর্য ধরে শোনেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
“জুলাই বিপ্লবের বীরদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। বর্তমান সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। আপনাদের চিকিৎসা এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের পরম দায়িত্ব।”
— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শাসন ব্যবস্থা কেবল নীতিনির্ধারণ নয়, বরং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যম—এই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে আজকের সাক্ষাতের মাধ্যমে।
