আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার এক ধাক্কায় ডিজেলের দাম ৫৪.৯ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৮৪.৬৫ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২০.৩৫ রুপি ($১.৮৮)। অন্যদিকে পেট্রোলের দাম ১৩৭.৪০ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৮.৪০ রুপি।
কেন এই রেকর্ড বৃদ্ধি?
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল আসা ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
মন্ত্রী মালিক বলেন, “গত তিন সপ্তাহে সরকার ১২৯ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি দিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের কোনো শেষ দেখা না যাওয়ায় এবং সীমিত সম্পদের কারণে এই বিশাল ভর্তুকি আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
অর্থনৈতিক প্রভাব ও স্বস্তি উদ্যোগ
জ্বালানির এই নজিরবিহীন দাম বৃদ্ধি পাকিস্তানে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি (Inflation) তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশটির দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর চরম আঘাত হানবে। তবে নিম্নবিত্তদের সুরক্ষায় অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব কিছু সুনির্দিষ্ট ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ক্ষুদ্র কৃষক ও মটরসাইকেল চালকদের জন্য বিশেষ সহায়তা।
আন্তঃনগর পণ্য পরিবহন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য টার্গেটেড সাবসিডি।
আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
পাকিস্তান মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে তেল আমদানি করে থাকে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই রুটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।
