আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করেছেন যে, তিনি লেবাননের সাথে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য তাঁর মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই আলোচনার জন্য তিনি একটি অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন— ‘হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ’।
নেতানিয়াহুর এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো যখন বৈরুত এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ১,৭০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দশ লক্ষাধিক মানুষ।
নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আউনের পরস্পরবিরোধী অবস্থান
নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার অনুরোধ আসায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর বক্তব্য ভিন্ন।
দুই পক্ষের প্রধান দাবি ও অবস্থান:
| পক্ষ | প্রধান দাবি / অবস্থান | মন্তব্য |
| বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু | হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও সরাসরি শান্তি চুক্তি। | “হামলা চলবেই” (Negotiating under fire)। |
| প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন | প্রথমে যুদ্ধবিরতি, তারপর সরাসরি আলোচনা। | কূটনৈতিক পথকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। |
| হিজবুল্লাহ (আলী ফাইয়াদ) | সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান ও যুদ্ধবিরতির শর্ত। | ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি। |
হিজবুল্লাহর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিরোধ
২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন এই অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর অন্তত ৪০০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলে কয়েকশ রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, হিজবুল্লাহর মূল শক্তি এখনও ‘অক্ষুণ্ণ’ এবং তারা আলোচনার চেয়ে মাঠের লড়াইকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
