নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১০ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত যুদ্ধবিরতির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এবার সরাসরি এর ভুক্তভোগী হলো বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ইরানি কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার অনুমতি দেয়নি। বর্তমানে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার (Mina Saqr) অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে আছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত নিয়ম মেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) কাছে অনলাইনে অনুমতির আবেদন করা হলেও তার উত্তর এসেছে ‘নেতিবাচক’।
জাহাজের বর্তমান অবস্থা ও কার্গো বিবরণ
৪০ দিনেরও বেশি সময় পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর এই সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় কিছুটা আশা জেগেছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন।
একনজরে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’:
| বিষয় | বিবরণ |
| অবস্থান | মিনা সাকার অ্যাঙ্করেজ, আরব আমিরাত (প্রণালী থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে)। |
| যাত্রাপথ | সৌদি আরবের রাস আল-খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু। |
| পণ্য | ৩৭,০০০ টন সার (Fertiliser)। |
| জনবল | ৩১ জন নাবিক ও ক্রু সদস্য। |
| অপেক্ষার সময় | ৪০ দিনের বেশি (যুদ্ধের শুরু থেকে)। |
কেন এই প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান?
বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালীতে কড়াকড়ি শুরু করেছে। তেহরান মূলত এই জলপথকে ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। ফলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র মতো সাধারণ কার্গো জাহাজগুলো এখন ভূ-রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হয়েছে।
“আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে হরমুজ অতিক্রমের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের জাহাজটি বর্তমানে প্রণালীর খুব কাছেই অবস্থান করছে।”
— কমোডর মাহমুদুল মালেক, এমডি, বিএসসি।
