আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে দামী নজরদারি ড্রোন, MQ-4C Triton, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি একটি ‘ইন-ফ্লাইট ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট’ (Code 7700) পাঠিয়েছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘Flightradar24’-এর তথ্যমতে, ড্রোনটি পারস্য উপসাগরে তিন ঘণ্টার মিশন শেষ করে ইতালির সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফিরছিল। কিন্তু জরুরি সংকেত পাঠানোর পরপরই এটি ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি পেন্টাগন।
MQ-4C ট্রাইটন: কেন এটি আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
এটি কেবল একটি ড্রোন নয়, বরং এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আকাশের চোখ’। এর সক্ষমতা নিচে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| মূল্য | ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি (প্রতিটি)। |
| উচ্চতা | ৫০,০০০ ফুটের ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম (HALE)। |
| স্থায়িত্ব | একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে। |
| রেঞ্জ | ৭,৪০০ নটিক্যাল মাইল। |
| প্রধান কাজ | সামুদ্রিক নজরদারি এবং P-8A পসাইডন প্লেনকে ডেটা সরবরাহ করা। |
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বর্তমানে মাত্র ২০টি এমন ড্রোন রয়েছে। একটি ট্রাইটন হারানো মানে আমেরিকার কৌশলগত নজরদারিতে বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি হওয়া।
আমেরিকার ইরান যুদ্ধের আকাশচুম্বী ব্যয়
নিচে সিপ্রি (SIPRI)-এর তথ্যের ভিত্তিতে চলমান যুদ্ধের ব্যয়ের একটি ভয়ঙ্কর চিত্র দেওয়া হলো:
প্রতি সেকেন্ডে ব্যয়: ১০,৩০০ ডলার
| খাতের নাম | দৈনিক ব্যয় (মিলিয়ন USD) | শতাংশ (%) |
| মিসাইল ও গোলাবারুদ | ৩২০ মিলিয়ন | ৩৬% |
| বিমান অভিযান | ২৪৫ মিলিয়ন | ২৭.৫% |
| নৌ অভিযান | ১৫৫ মিলিয়ন | ১৭.৪% |
| মিসাইল ডিফেন্স (Patriot/Aegis) | ৯৫ মিলিয়ন | ১০.৭% |
| গোয়েন্দা ও সাইবার অপারেশন | ৪৫ মিলিয়ন | ৫% |
| লজিস্টিকস ও জনবল | ৩০ মিলিয়ন | ৩.৪% |
