উপকূলীয় জেলা ভোলার জেলেদের জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই কেন্দ্রের কাজ শেষ হলে মৎস্য সংরক্ষণ ও বিপণনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সদর উপজেলার কাঠির মাথা এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত জমির ১৭ শতাংশের ওপর নির্মিতব্য দোতলা এই ভবনের কাজে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি শ্রমিক নিয়োজিত আছেন।
‘ইলিশের জেলা’ হিসেবে পরিচিত ভোলায় এতদিন ইলিশ সংরক্ষণ বা আমদানি-রপ্তানির জন্য কোনো আধুনিক অবতরণ কেন্দ্র ছিল না। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে শুধু ভোলা নয়, অন্যান্য জেলার পাইকাররাও এখানে মাছ কেনাবেচার জন্য আসবেন।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মাছ অবতরণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা এবং একটি অত্যাধুনিক সুবিধা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাছ সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো। কেন্দ্রটি মাছ ধরা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িত মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এই কেন্দ্রে একসঙ্গে ৩৬ জন জেলে তাদের ধরা মাছ বিক্রি করতে পারবেন। এখানে একটি নিলাম শেড, প্যাকিং শেড, পরিদর্শন কক্ষ, অফিস, গুদাম, আবাসিক কোয়ার্টার, বরফকল, পাবলিক টয়লেট, ট্রাক পার্কিং এলাকা, ক্যান্টিন, জেটি, গ্যাংওয়ে, পন্টুন, গভীর নলকূপ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, জেনারেটর এবং একটি মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি থাকবে।
প্রকল্পের সাইট সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মো. সাজিদুর রহমান বলেন, “দক্ষতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।”
স্থানীয় জেলেরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এটি সম্পন্ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন বাড়বে, তেমনি ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণের আধুনিক সুবিধা তৈরি হবে।
ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, “এই প্রকল্পটি জেলেদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে এবং উপকূলীয় এই জেলার সুযোগ-সুবিধা বাড়াবে।” স্থানীয় অংশীজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটি জেলার মৎস্য খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
