আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা
৮ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে যুদ্ধের ভয়াবহতা চরমে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলী বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, এটি যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ‘কোঅর্ডিনেটেড স্ট্রাইক’, যেখানে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববারের এই হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শত শত লোক আহত হয়েছেন। বৈরুতের রাস্তায় রক্তাক্ত মানুষদের চিৎকার এবং প্রাণ বাঁচাতে হাসপাতাল অভিমুখে মানুষের ছোটাছুটি এক বীভৎস দৃশ্যের অবতারণা করেছে।
যুদ্ধবিরতির গোলকধাঁধা: কার কথা সত্যি?
বর্তমানে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে একটি বড় ধরণের কূটনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবানন সেই চুক্তির আওতায় কি না, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান:
| পক্ষ | অবস্থান ও বক্তব্য |
| ইসরায়েল (নেতানিয়াহু) | লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবেই। |
| পাকিস্তান (মধ্যস্থতাকারী) | প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করে। |
| ফ্রান্স (ম্যাক্রন) | পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। লেবাননকে অবশ্যই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। |
| হিজবুল্লাহ | বুধবার সকাল থেকে হামলা বন্ধ রেখেছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। |
| লেবানন সরকার | চুক্তির বিষয়ে তাদের কোনো গ্যারান্টি দেওয়া হয়নি বা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। |
মানবিক বিপর্যয়: “লেবানন আর নিতে পারছে না”
ইসরায়েল গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের প্রায় ১৫ শতাংশ ভূখণ্ডে উচ্ছেদ আদেশ জারি করেছে। এর ফলে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ (১.২ মিলিয়ন) তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল এবং সিডনের স্কুলগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড় বাড়ছে। ৫৪ বছর বয়সী আহমেদ হার্ম বলেন, “লেবানন আর নিতে পারছে না। দেশের অর্থনীতি এবং কাঠামো—সবই ভেঙে পড়ছে।”
ইসরায়েলের পরিকল্পনা হলো দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী (Litani River) পর্যন্ত একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরি করা, যার মাধ্যমে তারা তাদের উত্তর অঞ্চলের বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়।
