স্বাস্থ্য প্রতিবেদক | ঢাকা
৮ এপ্রিল, ২০২৬
ব্লাড সুগার বা রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি (Spike) নিয়ন্ত্রণ করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি ডায়াবেটোলজিস্ট ডঃ পরাগ জিন্দাল ইনস্টাগ্রামে একটি সহজ ঘরোয়া টিপস শেয়ার করেছেন—খাবার খাওয়ার ১০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ইসবগুলের ভুষি (Psyllium Husk) মিশিয়ে পান করা। তাঁর মতে, এটি একটি প্রাকৃতিক ফাইবার হিসেবে কাজ করে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।
এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমরা কথা বলেছি থানের কিমস হাসপাতালের ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান ডঃ বিজয় নেগালুর-এর সাথে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসবগুল সত্যিই খাবারের পর ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসবগুল যেভাবে কাজ করে: বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
ইসবগুল মূলত এক ধরণের দ্রবণীয় ফাইবার (Soluble Fibre)। এটি পেটে যাওয়ার পর পানি শোষণ করে একটি জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে। এই জেলটি ক্ষুদ্রান্ত্রে শর্করার (Carbohydrates) পরিপাক এবং শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজ একবারে না মিশে ধীরে ধীরে মিশতে থাকে, যা ব্লাড সুগার স্পাইক প্রতিরোধ করে।
সময়জ্ঞান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
খাবার খাওয়ার ঠিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে ইসবগুল পান করা হলে এটি পরিপাক নালীর ওপর একটি স্তর তৈরি করে। এটি মূলত ‘প্রি-লোডিং’ হিসেবে কাজ করে, যা পরবর্তী খাবারের কার্বোহাইড্রেটগুলো শরীরের জন্য প্রসেস করা সহজ করে তোলে।
কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?
ডঃ নেগালুরের মতে, এই অভ্যাসটি নিচের ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ কার্যকর:
টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি।
প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে থাকা মানুষ।
যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন (ফাইবার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে)।
সেবনের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ইসবগুল একটি উপকারী উপাদান হলেও এর ভুল ব্যবহার হিতে বিপরীত হতে পারে। নিচে সঠিক নিয়ম ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা দেওয়া হলো:
| বিষয় | সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা |
| পরিমাণ | ১ থেকে ২ চা চামচ এক গ্লাস পানিতে। |
| পান করার সময় | গোলানোর সাথে সাথে পান করতে হবে, ঘন হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। |
| অতিরিক্ত পানি | ইসবগুল পানের পর আরও এক গ্লাস পানি পান করা জরুরি (না হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে)। |
| ওষুধের সাথে গ্যাপ | অন্যান্য ওষুধের সাথে অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা উচিত। |
| শারীরিক জটিলতা | যাদের আগে থেকেই পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা আছে, তাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। |
