আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ এপ্রিল, ২০২৬
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি ৭ তলা আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) জিএমটি ১৫০০ ঘটিকার দিকে এই হামলা চালানো হয়। বর্তমানে ইসরায়েলি ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া তিন জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ভবনটি সরাসরি ইরান থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার কয়েক মিনিট আগে সামরিক বাহিনী নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করেছিল।
হতাহতের বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ (MDA) জানিয়েছে, সরাসরি আঘাতে ভবনটির একাংশ ধসে পড়ায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধ: ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণ এবং ভারি কংক্রিটের আঘাতে তার অবস্থা গুরুতর হলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা হাত দিয়েই বড় বড় কংক্রিটের টুকরো সরিয়ে তাকে বের করে আনেন।
১০ মাস বয়সী শিশু: শিশুটি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে।
অন্যান্য: বাকি দুজন স্প্লিন্টার এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় আহত হয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা টর্চলাইট ব্যবহার করে ধসে পড়া নিচতলাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এএফপি-র ফুটেজে দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় চারদিকে কংক্রিটের ব্লক, ভাঙা কাঁচ এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এক বীভৎস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, রবিবার ইরানের পক্ষ থেকে অন্তত পাঁচটি ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল, তবে হাইফার এই ভবনটি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
একনজরে বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপট:
| বিষয় | তথ্য |
| আক্রান্ত স্থান | হাইফা, উত্তর ইসরায়েল। |
| ভবনের ধরণ | ৭ তলা আবাসিক ভবন। |
| নিখোঁজ | ৩ জন (ধ্বংসস্তূপের নিচে)। |
| হামলার শুরু | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে প্রতিদিন। |
| হামলার কারণ | শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেসিসহ ইরানি নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ। |
| পাল্টা ব্যবস্থা | ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত। |
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান প্রায় প্রতিদিন ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
