আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রস্তাবিত ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেবল সাময়িক বিরতি দিলে শত্রুপক্ষ পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা তেহরান হতে দেবে না। তারা এই যুদ্ধের একটি চিরস্থায়ী সমাধান এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, “আমরা যুদ্ধের সমাপ্তি এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।” রয়টার্স এবং অ্যাক্সিওস (Axios) এর প্রতিবেদনে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির আলোচনার কথা বলা হলেও বাঘাই সেটিকে সরাসরি স্বীকার করেননি।
মার্কিন ১৫ দফা ও ইরানের অনড় অবস্থান
পাকিস্তান মারফত ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি দাবিনামা পাঠিয়েছিল। এই দাবিনামাকে ‘অযৌক্তিক এবং অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেছেন বাঘাই। তিনি জানান, ইরান ইতিমধ্যে এই দাবির একটি পাল্টা জবাব তৈরি করেছে এবং সময়মতো তা প্রকাশ করা হবে।
একনজরে ইরানের নীতি ও অবস্থান:
| পক্ষ/বিষয় | বর্তমান অবস্থান ও মন্তব্য |
| সাময়িক বিরতি | প্রত্যাখ্যাত (কারণ: শত্রুকে প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া)। |
| মার্কিন ১৫ দফা | “অত্যন্ত অতিরিক্ত এবং অযৌক্তিক।” |
| হরমুজ প্রণালী | ট্রাম্পের ‘আল্টিমেটাম’ ও ‘যুদ্ধাপরাধের হুমকি’ আলোচনার পরিপন্থী। |
| সামরিক লক্ষ্য | ইরান তার সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী; এটি কোনো আপস নয়। |
সামরিক হুমকি: ‘শত্রুকে পস্তাতে হবে’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক বার্তার পাশাপাশি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী থেকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সোমবার বলেন, যদি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পুনরায় চালানো হয়, তবে ইরানের প্রতিশোধ হবে কয়েক গুণ ভয়াবহ এবং শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও হবে বিশাল।
সেনাবাহিনী মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া তাসনিম নিউজকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যতদিন প্রয়োজনীয় মনে করবেন, ততদিন তারা এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। তিনি যোগ করেন, “শত্রুকে অবশ্যই পস্তাতে হবে। এই যুদ্ধের পর আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে চাই যা স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
প্রেক্ষাপট: হরমুজ ও তেলের রাজনীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছিলেন যে, সোমবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। ইরানের পক্ষ থেকে এই হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধের পরিকল্পনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, তখন ইরানের এই অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগের মেঘ আরও ঘনীভূত করছে।
