নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১ এপ্রিল, ২০২৬
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে দায়ের করা সব মামলা পর্যালোচনা করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সারা দেশে দায়ের করা অনেক মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত আসামি করা হয়েছে, তবে তাদের সবাই অপরাধী নাও হতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে কিছু প্রকৃত অপরাধীর পাশাপাশি অনেক নির্দোষ মানুষকেও এসব মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রকৃত অপরাধীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে, অথচ নির্দোষ মানুষ জেল খাটছে।
মো. আমিনুল ইসলাম আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর দায়ের করা এই ধরনের সব মামলার তথ্য সংগ্রহ করতে তিনি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৫শ থেকে ৭শ মামলার অনুলিপি তার কাছে জমা পড়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সারা দেশের বাকি ফাইলগুলোও চলে আসবে বলে তিনি আশা করছেন। একটি বিশেষ দল প্রতিটি মামলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে।
চিফ প্রসিকিউটর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো অপরাধী যেন বিচার থেকে রেহাই না পায় এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে আটক না থাকে সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হয়রানি বা লাভের উদ্দেশ্যে যারা মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে তিনি জানান।
তদন্তের আওতায় আসবে সব ‘ক্রসফায়ার’ সারা দেশে ঘটে যাওয়া অসংখ্য কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এসব ঘটনার পেছনে একটি ‘সাধারণ প্যাটার্ন’ ছিল এবং পূর্ববর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব পরিচালনা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধাচরণকারী বা স্থানীয় নেতাদের অপছন্দের ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হতো। এরপর তাদের কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করে জনগণের কাছে বানোয়াট গল্প উপস্থাপন করা হতো।
তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলো পদ্ধতিগত অপরাধ এবং ব্যাপক আক্রমণ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে সারা দেশের সব ক্রসফায়ার মামলার নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলাগুলো পর্যালোচনার পর একটি কমিটি গঠন করা হবে, যারা নির্ধারণ করবে কোন কোন মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
