আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ | ৭ এপ্রিল, ২০২৬
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর আক্রমণ চালিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যকে স্থবির করে দিলেও এখন পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে পূর্ণ মাত্রায় যোগ দেয়নি। গত ৫ মার্চ হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতির দেওয়া “আঙুল ট্রিগারে আছে” বক্তব্যটি নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু কেন তারা এখনো ‘পার্শ্বচর’ হিসেবেই ভূমিকা রাখছে?
হুতিদের কৌশলগত বিলম্বের ৩টি প্রধান কারণ
১. স্বাতন্ত্র্য ও আদর্শিক ভিন্নতা: হিজবুল্লাহ বা ইরাকি গোষ্ঠীগুলো যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সরাসরি অনুগত, হুতিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তাদের ধর্মীয় মতবাদ (জায়দি শিয়া) এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনেক বেশি ইয়েমেন-কেন্দ্রিক। তারা তেহরানের নির্দেশের চেয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা সুসংহত করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
২. লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ কার্ড হিসেবে ব্যবহার: হুতিরা জানে যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর লোহিত সাগর এখন বৈশ্বিক তেলের বাজারের জন্য একমাত্র লাইফলাইন। তারা যুদ্ধে সরাসরি নামার চেয়ে এই রুটটি বন্ধ করার হুমকি দিয়ে পশ্চিমাবিশ্বকে চরম চাপে রাখছে।
৩. প্রক্সি তকমা থেকে মুক্তি: হুতিরা বারবার নিজেদের একটি স্বাধীন শক্তি হিসেবে জাহির করতে চায়। সরাসরি যুদ্ধে নামলে তারা ইরানের ‘পুতুল’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চায়।
হুতিদের সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ
| পরিস্থিতি | হুতিদের প্রতিক্রিয়া |
| হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে | লোহিত সাগরে হামলা আরও তীব্র করবে। |
| ইরানের ওপর সরাসরি হামলা হলে | ইসরায়েল ও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে মিসাইল হামলা। |
| মার্কিন হস্তক্ষেপ বাড়লে | লোহিত সাগরে বাণিজ্য পুরোপুরি অচল করে দেওয়া। |
