Tuesday, April 7, 2026
Homeজাতীয়হামের প্রাদুর্ভাব ও ‘ভ্যাকসিন গ্যাপ’: সংসদে পূর্ববর্তী সরকারদের দুষলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের প্রাদুর্ভাব ও ‘ভ্যাকসিন গ্যাপ’: সংসদে পূর্ববর্তী সরকারদের দুষলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২০ সাল থেকে বন্ধ দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি; ১১ হাজার কোটি টাকা বাজেট পড়ে থাকলেও কেন নেই পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও আইসিইউ?

সংসদ প্রতিবেদক | ৭ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর জন্য পূর্ববর্তী সরকার এবং গত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের ‘চরম অব্যবস্থাপনা’ ও ‘পরিকল্পনাহীনতা’কে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য আক্তার হোসেনের এক জরুরি নোটিশের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দেশে বড় কোনো ‘মিজলস-রুবেলা’ (MR) টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়নি, যা প্রতি ৪ বছর অন্তর হওয়ার কথা ছিল। এই ‘ভ্যাকসিন গ্যাপ’-এর কারণেই দেশের হাজার হাজার শিশু এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংসদে বিতর্ক: দাবি বনাম বাস্তবতা

সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন মন্ত্রীর পূর্বের একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে জানান, গত ৩ সপ্তাহে হামে ১১৫ জন সন্দেহভাজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যেখানে নিশ্চিত মৃত্যু ২০ জন। মাঠ পর্যায়ের তথ্য ও মন্ত্রীর তথ্যের মধ্যে গড়মিল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

বিষয়ের ধরণএমপির অভিযোগ / বাস্তবতাস্বাস্থ্যমন্ত্রীর জবাব / দাবি
মৃত্যুর সংখ্যা১১৫+ সন্দেহভাজন মৃত্যু, ২০ জন নিশ্চিত।পূর্ববর্তী প্রশাসনের ব্যর্থতার ফসল।
টিকাদান কর্মসূচি৮ বছর ধরে কোনো টিকা দেওয়া হয়নি (মন্ত্রীর দাবি)।২০২০ সাল থেকে কোনো বড় ক্যাম্পেইন হয়নি।
হাসপাতাল অবস্থাজেলা-উপজেলায় আইসিইউ ও আইসোলেশন নেই।২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত হচ্ছে; অক্সিজেন ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে।
বাজেট১১,০০০ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে (২০২৪-২৫)।কোভিড পিরিয়ডের ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে টিকা কেনা হচ্ছে।

ভয়াবহ চিত্র: ৬ মাসের শিশুও আক্রান্ত

সাধারণত ৯ মাস বয়স থেকে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন সংসদে উদ্বেগের সাথে জানান যে, বর্তমানে ৬ মাস বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বেড়েছে এবং শিশুদের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই বললেই চলে।

সরকারের ‘জরুরি’ পদক্ষেপসমূহ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে:

  • জরুরি ভ্যাকসিন ক্রয়: ইউনিসেফের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা এবং আরও ৬ ধরণের টিকা কেনা হচ্ছে।

  • বিশ্বব্যাংকের সহায়তা: মহামারি মোকাবিলায় ঋণ ও অনুদান পাওয়ার আশ্বাস মিলেছে।

  • মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং: স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

  • আইসিডিডিআর,বি-র সহযোগিতা: কম খরচে অক্সিজেন সরবরাহ পদ্ধতি (Low-cost oxygen delivery) প্রবর্তন করা হচ্ছে।

RELATED NEWS

Latest News