Monday, April 13, 2026
Homeআন্তর্জাতিককায়রোতে হামাস-মিসর বৈঠক: ‘ইয়েলো লাইন’ উত্তেজনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা

কায়রোতে হামাস-মিসর বৈঠক: ‘ইয়েলো লাইন’ উত্তেজনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা

ইসরায়েলি ‘লঙ্ঘন’ থামানোর দাবি হামাসের; ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের মুখে নতুন সংকট।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ এপ্রিল, ২০২৬

গাজায় গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং ইসরায়েলি সামরিক ‘লঙ্ঘন’ মোকাবিলায় রবিবার (১২ এপ্রিল) কায়রোতে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বৈঠকে বসছে হামাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া মার্কিন সমর্থিত এই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

হামাস প্রতিনিধি দল মিসরীয় কর্মকর্তাদের কাছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান প্রত্যাহার, সীমান্ত পথগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়া এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ বৃদ্ধির দাবি জানাবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত একটি প্রশাসনিক সংস্থার হাতে গাজার শাসনভার হস্তান্তরের বিষয়েও আলোচনা হবে।

যুদ্ধবিরতির বর্তমান অবস্থা ও ‘ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনা’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছিল যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি পরিকল্পনাটি এখন দ্বিতীয় ধাপে (Phase 2) প্রবেশ করেছে। এই ধাপের প্রধান শর্তগুলো নিম্নরূপ:

ধাপের নামপ্রধান লক্ষ্য ও শর্তাবলীবর্তমান চ্যালেঞ্জ
দ্বিতীয় ধাপ (Phase 2)হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার।হামাস রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ছাড়া অস্ত্র ছাড়তে নারাজ।
শান্তিরক্ষী বাহিনী২০,০০০ সদস্যের ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ মোতায়েন।বিভিন্ন দেশ সৈন্য দিতে সম্মত হলেও মোতায়েন প্রক্রিয়া ধীর।
ইয়েলো লাইনগাজাকে দুই জোনে বিভক্তকারী একটি ডি-ফ্যাক্টো সীমানা।এই সীমানার কাছে গেলেই সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের চিত্র: রক্তক্ষয়ী ‘শান্তি’

যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় সহিংসতা থামেনি। শনিবার উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা একটি ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেলের’ ওপর হামলা চালিয়েছে যারা ‘ইয়েলো লাইন’ বা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই সময়ের মধ্যে তাদের ৫ জন সৈন্যের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে।

RELATED NEWS

Latest News