পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এমডি তৌহিদ হোসেন কানাডাকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক তহবিল বাড়াতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক পরিস্থিতির একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
কানাডার সেনেটের এক সদস্যসহ দুই জন সিনিয়র সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল (এইচসিআই) এর নির্বাহী কার্যক্রমকারীদের একটি দল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে সাক্ষাত করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল রোহিঙ্গা সংকট। কানাডার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কানাডাকে অব্যাহত মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বিশ্বব্যাপী এই সংকটের প্রতি মনোযোগ ও তহবিল কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে দীর্ঘস্থায়ী থাকায় মানব পাচার, মাদক চোরাকারবারি এবং অস্ত্র ব্যবসা সহ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এটি ক্যাম্প এবং হোস্ট কমিউনিটিকে প্রভাবিত করছে।
কানাডার সংসদ সদস্যরা বিদেশী বিষয় ও নাগরিকত্ব-অভিবাসন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য। তারা বাংলাদেশের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জাতীয়দের জন্য মানবিক সহায়তা ও স্থায়ী সমাধানে কানাডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তারা রোহিঙ্গা শিশু-যুবকদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এমন উদ্যোগ পাচার ঝুঁকি কমাতে, ইতিবাচক সামাজিক আচরণ গড়ে তুলতে এবং শেষপর্যন্ত প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে বলে তারা মনে করেন।
এর জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, শিক্ষা উদ্যোগে স্থানীয় কমিউনিটির দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের প্রভাব বিবেচনা করে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি আশ্বাস দেন, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয় চলছে।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর এই আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার সঙ্গে এই আলোচনা স্থায়ী সমাধানের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
