প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এডিনবরার তিন ভাই জেমি, ইওয়ান ও ল্যাকলান ম্যাকলিন। টানা প্রায় ১৪০ দিন সমুদ্রের মধ্যে থেকে তারা ৯ হাজার মাইল (১৪ হাজার ৪৮৪ কিলোমিটার) পথ অতিক্রম করেছেন।
তাদের এই সময়টা ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এক ঝড়ের সময় ল্যাকলান সাগরে পড়ে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তা দড়ির কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং ভাইয়ের সহায়তায় আবার নৌকায় ফিরে আসেন। প্রায় দেড় দিনের সেই ভয়াবহ ঝড়ের মধ্যে ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস ও বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল পেরু থেকে এবং শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কেয়ার্নসে। ঝড়ের কারণে নির্ধারিত পথ বদলাতে হয় এবং ব্রিসবেনের দিকে না গিয়ে নিউ ক্যালেডোনিয়া দ্বীপপুঞ্জ ঘুরে আসতে হয়।
তাদের নৌকার নাম ছিল রোজ এমিলি। এটি রাখা হয়েছিল পরিবারের এক অজাত বোনের স্মৃতিতে। পুরো যাত্রা তারা সম্পন্ন করেছেন সম্পূর্ণ একা, কোনো রসদ নেওয়া বা বাইরের সাহায্য ছাড়াই। শুরুতে তারা সঙ্গে নিয়েছিলেন ৫০০ কেজি শুকনো খাবার ও ৭৫ কেজি ওটস। শেষের দিকে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় রেশন করে খেতে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মাছ ধরার ছিপও সঙ্গে ছিল।
স্কটিশ এই তিন ভাই ২০১৪ সালে রাশিয়ান একক রোয়ার ফিওদর কোনিউখভের তৈরি ১৬২ দিনের রেকর্ড ভেঙে ১৩৯ দিন, ৫ ঘণ্টা ও ৫২ মিনিটে যাত্রা শেষ করেছেন।
এ অভিযানে তারা এখন পর্যন্ত ৭ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন মাদাগাস্কারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য। তাদের লক্ষ্য এক মিলিয়ন পাউন্ড।
যাত্রার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ল্যাকলান বলেন, “এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। মাঝপথে ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমরা দিশেহারা হয়েছিলাম, কিন্তু ভাইদের একসঙ্গে থাকার শক্তিই আমাদের ভরসা দিয়েছে।”
অন্যদিকে জেমি এটিকে জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ও কঠিন অভিজ্ঞতা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “সূর্যাস্ত, তারাভরা রাত আর সাগরের একাকীত্বের অনেক কিছু মিস করব। তবে এখন শুধু পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পেরে স্বস্তি লাগছে।”
ভাইদের সবচেয়ে বড় চাওয়া ছিল ফান্ড সংগ্রহ ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো। আর যাত্রা শেষে তারা একবাক্যে বলেছেন, সবচেয়ে বেশি দরকার এক টুকরো পিজ্জা আর আরামদায়ক বিছানা।