ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে আদালতে দায়ের হওয়া এক রিট ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
রবিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী এস এম ফারহাদ অভিযোগ করেন, ভিন্নমতাবলম্বী বামপন্থি সংগঠনগুলো নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে এর আগে নানা প্রচারণা চালানো হয়েছে। এখন আবার রিট করা হলো। প্রশ্ন হলো, এতদিন অপেক্ষা করে এখন কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো? নির্বাচনের ঠিক আগে আদালতে যাওয়া কি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র নয়?”
ফারহাদ আরও বলেন, “আমরা রিটকারীকে সম্মান করি এবং আদালতের এখতিয়ারকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যদি এই অজুহাতে নির্বাচন ব্যাহত হয়, ছাত্রসমাজ তা প্রতিহত করবে।”
বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, “বিচ্ছিন্ন বামরা মুক্তিযুদ্ধের নামে ব্যবসা করছে। তারা দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়, এটি সবার।”
একই সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবু শাদিক কায়েম বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর ভোটের মাধ্যমে “ব্যালট বিপ্লব” ঘটাবে শিক্ষার্থীরা।
তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা ছাত্রদের সমস্যার বদলে বিএনএসএল আর দিল্লির প্রসঙ্গ টেনে আনছে।”
কায়েম আরও দাবি করেন, তাদের নারী প্রার্থীদের নিয়ে সাইবার বুলিং, ছবি বিকৃতি এবং অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়, শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ছাত্র রাজনীতির সব শিবিরেই এ নির্বাচনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।