বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ঢাকা
৯ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত ‘জুলাই সনদ’ (July Charter) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: শহীদদের আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক এক আলোচনায় এই দাবি তোলা হয়। সভায় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটে বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পরও যদি সরকার সংস্কারে বিলম্ব করে, তবে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
ডাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) শাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জুলাই বিপ্লবে নিহত শহীদদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রত্যাশা ও গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকের মূল বার্তা ও শহীদ পরিবারের দাবি
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই ম্যান্ডেট উপেক্ষা করা হবে আত্মঘাতী।
শহীদ পরিবারের আবেগঘন বক্তব্য:
| শহীদ সদস্য | বক্তার বক্তব্য ও দাবি |
| শহীদ ইব্রাহিম | তাঁর মা বলেন, “পুরানো শাসনব্যবস্থা যেন আর ফিরে না আসে, কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়।” |
| শহীদ জিসান | তাঁর মা দ্রুত সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফেরানোর অনুরোধ জানান। |
| শহীদ সোহেল রানা | তাঁর ভাই অভিযোগ করেন, নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ভাইকে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। |
| শহীদ হাসান | তাঁর বাবা জানান, ডিএনএ টেস্টের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর তাঁর ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। |
ডাকসুর আল্টিমেটাম: সংস্কার না হলে সংগ্রাম
ডাকসু ভিপি শাদিক কায়েম বলেন, “হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি করেছে। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।” তিনি মানবাধিকার কমিশন এবং গণভোট প্রক্রিয়াসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক এম এম আল মিনহাজ স্পষ্টভাবে বলেন, “পূর্ববর্তী গুম, খুন ও নির্যাতনের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার যে কোনো চেষ্টা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।” এছাড়া স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগের সংকট দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
