স্পেনের এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন লিভারপুল ও পর্তুগাল জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটা এবং তার ভাই আন্দ্রে সিলভা। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে লিভারপুল ফুটবল ক্লাব জানায়, “দিয়োগো জোটার মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, “বুঝতে পারছি না। আমরা তো কিছুদিন আগেই জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে খেলেছি, জাতীয় লীগ জিতেছি। তুমি মাত্রই বিয়ে করেছো। তোমার পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। শান্তিতে ঘুমাও দিয়োগো ও আন্দ্রে। আমরা তোমাদের মনে রাখব।”
বিখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও লিভারপুল শেয়ারহোল্ডার লেব্রন জেমস লেখেন, “এই দুঃসময়ে তার পরিবারের জন্য আমার প্রার্থনা রইল। তোমরা কখনো একা নও, জোটা। You’ll Never Walk Alone।”
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মোন্টেনেগ্রো বলেন, “এই দুর্ঘটনা আকস্মিক ও বেদনাদায়ক। দিয়োগো জোটা ও তার ভাইয়ের মৃত্যু জাতীয়ভাবে শোকের বিষয়।”
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক খবর। জোটার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের প্রথম ভাবনা। কোটি কোটি লিভারপুল সমর্থক এবং ফুটবলপ্রেমীরাও আজ শোকাহত।”
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, “দিয়োগো ও আন্দ্রে সিলভা পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা প্রতিদিন তাদের উত্তরাধিকার রক্ষা করে চলব।”
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) জানায়, “ইউরোপীয় ফুটবল পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইউরো ২০২৫ নারী ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।”
প্রাক্তন সতীর্থ রুবেন নেভেস বলেন, “তোমাকে কখনো ভুলব না, দিয়োগো।”
জোটার সাবেক ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স এক বিবৃতিতে জানায়, “দিয়োগো আমাদের হৃদয়ে চিরকাল থেকে যাবেন। তিনি মাঠে যেমন দুর্দান্ত ছিলেন, তেমনি মানুষের মন জয় করতেন। আমাদের ভালোবাসা চিরন্তন।”
তার সাবেক সতীর্থ রাউল হিমেনেজ লেখেন, “তোমার মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। তুমি একজন চমৎকার দলসাথী, বন্ধু এবং পিতা ছিলে। আমরা তোমাকে সবসময় মনে রাখব।”
লিভারপুলের ফরোয়ার্ড ডারউইন নুনিয়েস বলেন, “এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। তোমার হাসিমাখা মুখ সবসময় মনে থাকবে। আমি জানি তুমি তোমার পরিবারকে দেখছো—বিশেষ করে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে।”
ব্রিটিশ কালচার সেক্রেটারি লিসা ন্যান্ডি হাউস অব কমন্সে বলেন, “এই হৃদয়বিদারক খবরে আমরা সবাই স্তব্ধ। দিয়োগোর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি।”
প্রিমিয়ার লিগ এক বিবৃতিতে জানায়, “দিয়োগো ও আন্দ্রের মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। ফুটবল হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমরা লিভারপুল ক্লাব ও তার পরিবারের পাশে আছি।”
পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তো জানায়, “শোকস্তব্ধ হয়ে আমরা দিয়োগো ও আন্দ্রের পরিবারের পাশে আছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।”
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিবৃতিতে বলা হয়, “এই শোকসংবাদ আমাদের হৃদয় বিদীর্ণ করেছে। দিয়োগো ও আন্দ্রের আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
দিয়োগো জোটা মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। পর্তুগালের হয়ে ৪৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং সম্প্রতি জাতীয় লীগ জিতেছেন। তার এই অকাল প্রস্থান কেবল ফুটবলের জন্য নয়, বরং সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।