নিজস্ব প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে উপজেলার খাদিদপুর ইউনিয়নের যুগিরহুদা গ্রামে সংঘটিত এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রোববার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা যুগিরহুদা গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী জনৈক কফিল উদ্দিন জানান, নির্বাচনী প্রচারের সময় জামায়াত কর্মীরা জয়নাল নামে এক গ্রামবাসীর বাড়িতে গিয়ে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাদের ‘বিকাশ’ নম্বর সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। এই খবর জানাজানি হলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলায় নারী কর্মীসহ তাদের ৯ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল দাবি করেন, তাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তাদের ৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আহত জামায়াত কর্মীদের আলমডাঙ্গা উপজেলা হার্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বানি ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
