বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) শিল্পে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কঠোর শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ফজলি শামীম এহসান বলেন, “আমরা এমন শ্রম আইন চাই যা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তবে মাত্র ২০ জন কর্মী দিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ দিলে শ্রমবাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।”
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বর্তমানে ২০ জন কর্মী দিয়ে ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এ প্রেক্ষাপটে এহসান বলেন, “ছোট ও মাঝারি শিল্পে এ ধরনের পদক্ষেপ একাধিক নামমাত্র ইউনিয়নের জন্ম দিতে পারে। এর ফলে ব্যবস্থাপনা স্তরে বারবার চাপ সৃষ্টি হবে, কর্মস্থলে বিভাজন বাড়বে, উৎপাদনশীলতা কমবে এবং শিল্পে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতি অনৈতিক কার্যক্রম ও সুযোগসন্ধানী কর্মকাণ্ডকে উসকে দিতে পারে, যা সুস্থ শিল্প সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।”
এহসান বিশেষভাবে তৈরি পোশাক শিল্পের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। নতুন শ্রম আইন সংশোধন শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি করলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং সময়মতো অর্ডার সরবরাহে সমস্যা দেখা দেবে। এতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও দুর্বল হবে।”
বর্তমানে দেশে ২২ হাজার কারখানায় ১ হাজার ৪০০ নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ৮৯তম ট্রাইপার্টাইট কনসালটেটিভ কাউন্সিল (টিসিসি) সভায় এ খসড়া সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাটেম সভায় বলেন, “আইএলও বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শ মেনে শ্রম আইন করা উচিত নয়। শিল্প রক্ষায় মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।”
বিইএফ-এর মহাসচিব ও সিইও ফারুক আহমেদ বলেন, সরকারকে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে দেশে একটি সুষ্ঠু শ্রমবাজার নিশ্চিত করা যায়।
