অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
১০ এপ্রিল, ২০২৬
স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পর বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (SME) উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে ১১টি ব্যাংক এবং ৪টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (NBFI) মধ্যে ক্রেডিট হোলসেলিং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় উদ্যোক্তারা মোট ৪০০ কোটি টাকার নতুন ঋণ সুবিধা পাবেন।
লজিস্টিকস খরচ ও বৈশ্বিক মানদণ্ড: একটি বড় চ্যালেঞ্জ
শিল্পমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের শিল্প খাতের অন্যতম প্রধান একটি প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের লজিস্টিকস খরচ (Logistics Costs) জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক মানদণ্ড ১০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি।
একনজরে শিল্পমন্ত্রীর উত্থাপিত মূল পয়েন্টসমূহ:
| বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি / লক্ষ্য | মন্তব্য |
| লজিস্টিকস খরচ | জিডিপির ১৬% | বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ১০%-এ নামাতে হবে। |
| নতুন কর্মসংস্থান | বছরে ২০-২২ লক্ষ জন | এসইএমই খাতের মাধ্যমে এই চাহিদা মেটানো সম্ভব। |
| ঋণ কর্মসূচির আকার | ৪০০ কোটি টাকা প্লাস | ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ। |
| প্রধান চ্যালেঞ্জ | জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি | বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে খরচ বাড়ছে। |
অংশগ্রহণকারী ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান
উদ্যোক্তাদের মাঝে এই ঋণ পৌঁছে দিতে যে ১৫টি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, সেগুলো হলো:
ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (UCB), প্রাইম ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বিডিবিএল (BDBL), কর্মসংস্থান ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইপিডিসি (IPDC) ফাইন্যান্স, আইডিএলসি (IDLC) ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স এবং ইউনাইটেড ফাইন্যান্স।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় জিডিপিতে তাদের অবদান বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
