অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
দেশের গভীরতর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত বাধা অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (BSREA)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে এলএনজি (LNG), কয়লা ও তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট: এক নজরে
BSREA-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
| সূচক | বর্তমান অবস্থা | প্রভাব/ঝুঁকি |
| গ্যাসের চাহিদা (বিদ্যুৎ খাত) | ২,৫০০ mmcfd+ | সরবরাহ মাত্র ৮৫০-৯০০ mmcfd। |
| বিদ্যুৎ ঘাটতি | ১,৫০০ – ১,৮০০ মেগাওয়াট | শিল্প উৎপাদনে ৩০-৪০% ধস (বিশেষ করে আরএমজি)। |
| জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা | চাহিদোর ৬০% এর বেশি | বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার সংকটে সরবরাহ ঝুঁকি। |
| কৌশলগত মজুত | মাত্র ৩৫ – ৪০ দিন | ভূ-রাজনৈতিক সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা অনিশ্চিত। |
| সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক | ৫০% থেকে ৬০% | নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে প্রধান বাধা। |
সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, “একদিকে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছে, অন্যদিকে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়ে রাখা হয়েছে। এটি একটি নীতিগত ভারসাম্যহীনতা।”
বৈশ্বিক প্রভাব ও মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৫-১২০ ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির ৭০ শতাংশই আসে কাতার থেকে, যা এই রুটের অস্থিরতার কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিএসআরইএ-এর প্রস্তাবনাসমূহ:
১. সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামে আমদানিশুল্ক আমূল কমানো।
২. লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা প্রদান।
৩. দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।
৪. স্থগিত হয়ে থাকা সৌর প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
৫. নেট মিটারিং প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
