Wednesday, April 15, 2026
Homeঅর্থ-বাণিজ্যজ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ: নবায়নযোগ্য শক্তিতে ৬০% শুল্কের ‘ব্রেক’ সরানোর দাবি

জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ: নবায়নযোগ্য শক্তিতে ৬০% শুল্কের ‘ব্রেক’ সরানোর দাবি

প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন; আমদানিকৃত জ্বালানির চাপে দিশেহারা শিল্প খাত।

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা

১৩ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের গভীরতর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত বাধা অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (BSREA)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে এলএনজি (LNG), কয়লা ও তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট: এক নজরে

BSREA-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক:

সূচকবর্তমান অবস্থাপ্রভাব/ঝুঁকি
গ্যাসের চাহিদা (বিদ্যুৎ খাত)২,৫০০ mmcfd+সরবরাহ মাত্র ৮৫০-৯০০ mmcfd।
বিদ্যুৎ ঘাটতি১,৫০০ – ১,৮০০ মেগাওয়াটশিল্প উৎপাদনে ৩০-৪০% ধস (বিশেষ করে আরএমজি)।
জ্বালানি আমদানিনির্ভরতাচাহিদোর ৬০% এর বেশিবৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার সংকটে সরবরাহ ঝুঁকি।
কৌশলগত মজুতমাত্র ৩৫ – ৪০ দিনভূ-রাজনৈতিক সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা অনিশ্চিত।
সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক৫০% থেকে ৬০%নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে প্রধান বাধা।

সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, “একদিকে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছে, অন্যদিকে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়ে রাখা হয়েছে। এটি একটি নীতিগত ভারসাম্যহীনতা।”

বৈশ্বিক প্রভাব ও মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৫-১২০ ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির ৭০ শতাংশই আসে কাতার থেকে, যা এই রুটের অস্থিরতার কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিএসআরইএ-এর প্রস্তাবনাসমূহ:

১. সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামে আমদানিশুল্ক আমূল কমানো।

২. লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা প্রদান।

৩. দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

৪. স্থগিত হয়ে থাকা সৌর প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

৫. নেট মিটারিং প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।

RELATED NEWS

Latest News