নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিকল্প পথে জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক এই বিকল্প রুট পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর অবরোধের মুখে বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়া সরকারের জন্য একটি বড় কৌশলগত সাফল্য।
নতুন রুটের গন্তব্য ও চ্যালেঞ্জ
বিএসসি সূত্রমতে, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত ‘ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট’ থেকে এক লাখ টন তেল একটি ট্যাঙ্কারে লোড করা হবে। তবে এই রুটেও নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের ‘বাব-আল-মানদেব’ প্রণালী অবরোধ করার হুমকি দিয়েছে। যদি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের হামলা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে হুতিরা এই পদক্ষেপ নিতে পারে।
মজুত বাড়াতে আসছে ২ লাখ টন তেল
বর্তমানে দুটি ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে মোট ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া সচল রয়েছে:
লোহিত সাগর রুট: সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন (মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পৌঁছাবে)।
পারস্য উপসাগর রুট: ‘এমটি নর্ডিক পলক্স’ নামক জাহাজটি ১ লাখ টন তেল নিয়ে বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। এটি হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য ইরানের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
বিএসসি আশা করছে, সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এই ২ লাখ টন তেল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে, যা দেশের জ্বালানি তেলের মজুত বা বাফার স্টকের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির লক্ষ্যমাত্রা
আমদানিকৃত এই তেল চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ERL) পরিশোধন করা হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রমতে, ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল থেকে নিচের জ্বালানি পণ্যগুলো উৎপাদিত হবে:
| জ্বালানির ধরন | সম্ভাব্য উৎপাদন (মেট্রিক টন) |
| ডিজেল | ৫২,০০০ |
| ফার্নেস অয়েল | ৪৮,০০০ |
| কেরোসিন | ৪২,০০০ |
| পেট্রোল | ৩২,০০০ |
| অকটেন | ১৬,০০০ |
