নিজস্ব প্রতিবেদক | ৭ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সংকটের জেরে দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। এখন থেকে প্রতিদিন রাত ৭টার মধ্যে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং বিলবোর্ডের বাতি নিভিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রিসভা বিভাগ থেকে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
একই চিঠিতে শপিং মল, বিপণি বিতান এবং দোকানপাটের জন্য বাতি নেভানোর সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৭টা করা হয়েছে। এর আগে এই সময়সীমা ছিল সন্ধ্যা ৬টা।
ব্যবসায়ীদের দাবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত
জ্বালানি সংকটের শুরু থেকেই দোকান মালিকরা ব্যবসার স্বার্থে বাতি নেভানোর সময়সীমা সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গত ৪ এপ্রিল দোকান মালিক সমিতির নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সরকার ৮টার পরিবর্তে ৭টা পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একনজরে নতুন সময়সূচী ও নির্দেশনা:
| ক্ষেত্র | নতুন সময়সীমা (বাতি নেভানো) | আগের অবস্থা |
| সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা | রাত ০৭:০০ টা | নির্দিষ্ট ছিল না |
| বাণিজ্য মেলা (Trade Fair) | রাত ০৭:০০ টা | নির্দিষ্ট ছিল না |
| বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপন | রাত ০৭:০০ টা | রাতভর চলত |
| শপিং মল ও দোকানপাট | রাত ০৭:০০ টা | সন্ধ্যা ০৬:০০ টা |
সংকটের মূলে ইরান যুদ্ধ
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকিতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। মন্ত্রিসভা বিভাগের চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ করে জাতীয় গ্রিডে লোড কমাতে এই ‘ইমার্জেন্সি’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
