Wednesday, April 1, 2026
Homeজাতীয়জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে: শামা ওবায়েদ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে: শামা ওবায়েদ

জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ। দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই এবং মজুদ গত বছরের তুলনায় বেশি বলে সংসদকে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

১ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া—উভয় দেশের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাশিয়ার ওপর বিদ্যমান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতা রয়েছে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনার প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই জটিলতা নিরসনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থনীতি ও জনস্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ স্বীকার করেন যে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি একটি স্বাভাবিক বিবেচনায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির বিকল্পগুলো যাচাই করছে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, তবে কিছু গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। সৌদি আরব, ভারত, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে এপ্রিলেই নতুন সরবরাহ পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গত সোমবার সংসদে জানিয়েছেন যে, জ্বালানির সরবরাহ সংকট নয় বরং মজুদদারিই এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয়। বিধি ৩০০-এর অধীনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশে এই মুহূর্তে কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চে জ্বালানি সরবরাহ ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি বজায় রাখা হয়েছে। গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার টনে, যা গত ১৭ ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন।

অন্য এক প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ মানবপাচার রোধে আন্তর্জাতিক সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য যাবেই, কিন্তু অসাধু ব্যক্তিরা আর্থিক লাভের জন্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। মানবপাচার নির্মূলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

RELATED NEWS

Latest News