Friday, December 12, 2025
Homeজাতীয়বাংলাদেশে ‘ডায়াবেটিক ফুট’ জটিলতায় পা হারাচ্ছেন অনেকে

বাংলাদেশে ‘ডায়াবেটিক ফুট’ জটিলতায় পা হারাচ্ছেন অনেকে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাই পারে অঙ্গহানি রোধ করতে

বাংলাদেশে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা ‘ডায়াবেটিক ফুট’-এর কারণে উদ্বেগজনক হারে মানুষ পা হারাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থার পেছনে মূল কারণ হলো অজ্ঞতা ও অবহেলা।

বুধবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক পোডিয়াট্রি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটি আয়োজিত এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল “সুস্থ জীবনের জন্য দরকার সুস্থ পা।”

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ডায়াবেটিক ফুট প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পা-সংক্রান্ত সমস্যাকে প্রায়ই অবহেলা করা হয়, অথচ এটি শরীরের ভারসাম্য ও সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এ কে এম আজাদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক মির্জা মাহবুবুল হাসান, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুদ্দিন আহমেদ, এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অধ্যাপক ফারুক পাঠান, অধ্যাপক জি এম মকবুল হোসেন, অধ্যাপক ফিরোজ আমিন, প্লাস্টিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ও ডা. বজলুল গনি ভূঁইয়া।

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটির সভাপতি ও নিটোরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শেখ নুরুল আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডা. মোরশেদ উদ্দিন আকন্দ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ ডায়াবেটিক ফুট আলসারের ঝুঁকিতে আছেন। এ ধরনের ক্ষত সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক সংক্রমণ ও অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়ে।

তারা বলেন, ডায়াবেটিক ফুটের চিকিৎসা প্রায়ই আলাদাভাবে পরিচালিত হয়, যেখানে ভাসকুলার বিশেষজ্ঞ, এন্ডোক্রিনোলজিস্ট, অর্থোপেডিক সার্জন, প্লাস্টিক সার্জন ও পোডিয়াট্রিস্টদের মধ্যে সমন্বয় থাকে না। সমন্বিতভাবে চিকিৎসা পরিচালনা করলে এর ফলাফল অনেক ভালো হতে পারে।

বক্তারা বলেন, মানুষ মুখের যত্নে যতটা সচেতন, পায়ের যত্নে ততটা মনোযোগী নয়। অথচ সুস্থ জীবনের জন্য সুস্থ পা অপরিহার্য।

তারা বারডেম হাসপাতালে ডায়াবেটিক ফুট প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিও ঘোষণা করা হয়। সভাপতি নির্বাচিত হন অধ্যাপক শেখ নুরুল আলম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক জি এম মকবুল হোসেন ও অধ্যাপক ফিরোজ আমিন, সাধারণ সম্পাদক ডা. মোরশেদ উদ্দিন আকন্দ।

অন্যান্য পদে রয়েছেন সংগঠনিক সম্পাদক ডা. আনোয়ারুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ডা. পারভেজ রশিদ, বৈজ্ঞানিক সম্পাদক ডা. চৌধুরী রাশেদুল মুগনি, অফিস সম্পাদক ডা. এস এম মঈনউদ্দিন ও যুগ্ম সম্পাদক ডা. জহিরুল ইসলাম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডা. মোহাম্মদ মাহবুব আলম, ডা. মাহমুদ নাজমুল হাসান, ডা. মাহমুদ সুলতান, ডা. এম সাইফউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফারিয়া আফসানা, ডা. সাজ্জাদ সেলিম ও ডা. বজলুল গনি ভূঁইয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা ও সমন্বিত চিকিৎসা কাঠামো গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক ফুটজনিত জটিলতা ও অঙ্গহানির হার অনেক কমানো সম্ভব।

RELATED NEWS

Latest News