Friday, April 3, 2026
Homeখেলাধুলা২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থা’র সতর্কতা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থা’র সতর্কতা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র ১০ সপ্তাহ বাকি থাকতে আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি। ফিফার দেওয়া ‘নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ইভেন্টের প্রতিশ্রুতি এখন হুমকির মুখে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য বড় ধরনের মানবাধিকার ঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, টুর্নামেন্টটি ফিফার দেওয়া ‘নিরাপদ, মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ পরিবেশের প্রতিশ্রুতি থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। বিশেষ করে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি।

আগামী ১১ জুন মেক্সিকোতে উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হতে যাওয়া এই আসরের তিন-চতুর্থাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গণ-ডিপোর্টেশন (বহিষ্কার), আগ্রাসী অভিবাসন নীতি এবং বিক্ষোভের ওপর কড়াকড়ির কারণে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। সংস্থাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন রয়টার্সকে বলেন, “এই টুর্নামেন্ট ঘিরে বিশাল ঝুঁকি রয়েছে। ৮ বছর আগে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বকাপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক আলাদা এবং উদ্বেগজনক।”

যুক্তরাষ্ট্র: গণ-গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশন অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার ছয় গুণেরও বেশি। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর এই কার্যক্রম বিশ্বকাপের উৎসবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটি ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে গ্যারান্টি নেয় যে স্টেডিয়াম, ফ্যান জোন বা ওয়াচ পার্টির আশেপাশে কোনো অভিবাসন অভিযান চালানো হবে না।

মেক্সিকো ও কানাডা: সামরিকায়ন ও উচ্ছেদ মেক্সিকোতে টুর্নামেন্ট চলাকালীন ১ লাখ নিরাপত্তা কর্মী এবং ২০ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অ্যামনেস্টি সতর্ক করেছে যে, এই ব্যাপক সামরিকায়ন বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কারণে উচ্ছেদ ও পানি সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে কানাডায় বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কারণে ভ্যাঙ্কুভার ও টরন্টোর গৃহহীন মানুষদের জোরপূর্বক ক্যাম্প থেকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। টরন্টোতে ফিফা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিমধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সেরা এবং নিরাপদ ইভেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে মনোযোগী। কানাডা সরকারও মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে মেক্সিকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অ্যামনেস্টি ভক্তদের সতর্ক করে বলেছে, “আমরা আপনাদের যেতে নিষেধ করছি না, তবে যাওয়ার আগে বাস্তবতা এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।”

RELATED NEWS

Latest News