নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১১ এপ্রিল, ২০২৬
বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও এতে রয়ে গেছে নানা প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত ত্রুটি। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী মোর্চা ‘অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (AFED) তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই মিশনে মোট ৫৩ জন পর্যবেক্ষক ১০৩টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটাররা কোনো বড় ধরণের বিঘ্ন ছাড়াই ভোট দিতে পারলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট তৈরির মতো বেশ কিছু ফাঁক-ফোকর শনাক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনী অনিয়ম ও পরিসংখ্যান: এক নজরে
পর্যবেক্ষণকালে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যানগুলো নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| পর্যবেক্ষণের বিষয় | পরিসংখ্যান / হার | মন্তব্য |
| প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশাধিকার | ৩২% কেন্দ্রে অনুপস্থিত | ভোটারদের স্বাধীন অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। |
| ভোটার শনাক্তকরণ বিচ্যুতি | ১২% কেন্দ্রে নিয়ম মানা হয়নি | পরিচয় যাচাইয়ে শিথিলতা লক্ষ্য করা গেছে। |
| প্রক্সি ভোটিং (ছায়া ভোট) | ১১% কেন্দ্রে আলামত মিলেছে | প্রকৃত ভোটারের বদলে অন্য কেউ ভোট দিয়েছেন। |
| প্রচারণার নীরবতা ভঙ্গ | প্রায় ৫০% কেন্দ্রের পাশে প্রচারণা | আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। |
| সংঘবদ্ধ পরিবহন | ৫০% কেন্দ্রে দেখা গেছে | বিশেষ বাহনে করে ভোটারদের কেন্দ্রে আনা হয়েছে। |
| ভোটার উপস্থিতি | ৩১% কেন্দ্রে ‘নিম্ন’ উপস্থিতি | জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় হার অনেক কম। |
বর্জন ও সহিংসতা
শেরপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান ব্যাপক অনিয়ম ও এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন। এছাড়া শেরপুরে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হওয়ার খবরও পর্যবেক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়া-৬ আসনের পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রেও চরম অনীহা দেখা গেছে। ইস্যু করা ব্যালটের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) ফেরত এসেছে, যার অনেকগুলো আবার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে বাতিল হয়ে গেছে।
